Latest news

মহান শিশু দিবসে বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ করে আনসার ব্যাটালিয়ন সদস্য ইকলাছুর রহমানে মূল্যবান বক্তব্য।

শুক্রবার, ১৯ মার্চ ২০২১ | ১২:০৬ পিএম | 237 বার

মহান শিশু দিবসে বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ করে আনসার ব্যাটালিয়ন সদস্য ইকলাছুর রহমানে মূল্যবান বক্তব্য।

 

মহান শিশু দিবস ও বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকীতে ১ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরে থাকা ব্যাটালিয়ন সদস্য ইকলাছুর রহমানের বঙ্গবন্ধু স্মরণে এক মূল্যবান বক্তব্য দেন।

তিনি প্রথমেই মঞ্চে উঠে বলেন
বিস্মিল্লাহীর রাহমানির রাহিম”
আজ ১৭ই মার্চ সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী ও স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০১ তম জন্ম শতবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভার সম্মানীত প্রধান অতিথি ১ আনসার ব্যাটালিয়নের সম্মানীত পরিচালক মহোদয়, উপস্থিত রয়েছেন অত্র ব্যাটালিয়নের সম্মানীত সহকারী পরিচালক ও কোম্পানী কমান্ডার স্যার, সামনে রয়েছেন প্লাটুন কমান্ডার, সহকারী প্লাটুর কমান্ডার স্যারগনসহ বিভিন্ন পদবীর ব্যাটালিয়ন আনসার সদস্যবৃন্দ আস্সালামু আলাইকুম।
বক্তব্যের শুরুতেই আমি গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্বরণ করছি স্বাধীন বাংলার মহান স্থপতি, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী, যার জন্ম না হলে বাংলাদেশ নামে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হতনা, সেই মহান ব্যক্তি বাঙ্গালী জাতীর পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ ৭৫এর ১৫ই আগষ্ট ঘাতকের নির্মম বুলেটে শাহাদৎ বরণকারী পরিবারের সকল সদস্যদের প্রতি । ১৯২০ সালের ১৭ই মার্চ আজকের এইদিনে তদানিন্তন ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জ মহকুমার টুঙ্গীপাড়ায় জন্মগ্রহন করেন স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা ও স্থপতি, বাঙ্গালীর অবিসংবাদিত মহান নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
বঙ্গবন্ধু শুধু বাঙ্গালীর নয় প্রতিটি বাংলা ভাষা-ভাষির প্রানের প্রিয় মানুষ। নন্দিত-নেতৃত্বে, সাহসী-সংগ্রামে, মেধা-মননে, বঞ্চিত-ব্যথায়, মিছিলে-মিটিংয়ে, মহামুক্তির ভাষনে ও বারবার কারাবরণে তিনিই তার তুলনা। তিনি আমাদের এনে দিয়েছেন একটি স্বাধীন রাষ্ট্র। লাল সবুজের পতাকা ও সংবিধান।
২৫শে মার্চের অগ্নীঝড়া কালোরাত, ঘুমন্ত নিরীহ নিরস্ত্র বাঙ্গালীদের উপর ঝঁাপিয়ে পড়ে পাকিস্তানী সেনাবাহিনী। আক্রমন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, পিলখানা, রাজারবাগ পুলিশ লাইন। এরাতেই দেশের মেধাবী, জ্ঞানী-গুনী, শিক্ষক, পেশাজীবি, বুদ্ধিজীবিদের বাসা থেকে ধরে নিয়ে মিরপুর বদ্ধভূমিতে নিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে পাক হানাদার বাহিনী।
২৫শে মার্চ ১৯৭১ রাত ১২টা ২০ মিনিটে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষনা করেন। তিনি বলেন; “সম্ভবত এটাই আমার শেষ বার্তা, আজ থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন। আমি বাংলাদেশের জনসাধারণকে আহ্বান জানাচ্ছি তোমরা যে যেখানেই আছ এবং যাই তোমাদের হাতে আছে তার দ্বারাই শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দখলদার সৈন্যবাহিনীকে প্রতিরোধ করতে হবে। যতক্ষণ না পাকিস্তান দখলদার বাহিনীর শেষ ব্যক্তি বাংলাদেশের মাটি থেকে বিতারিত হবে এবং যতক্ষণ পর্যন্ত না চুড়ান্ত বিজয় অর্জিত হবে, তোমাদের যুদ্ধ চালিয়ে যেতে হবে। পাকিস্তান সেনাবাহিনী অতর্কিতভাবে পিলখানা ইপিআর ঘঁাটি, রাজারবাগ পুলিশ লাইন, আক্রমন করেছে এবং শহরের রাস্তায় রাস্তায় যুদ্ধ চলছে, আমি বিশ্বের জাতীসমূহের কাছে সাহায়্যের আবেদন করছি। আমাদের মুক্তিযোদ্ধারা বীরত্বের সঙ্গে মাতৃভূমি মুক্ত করার জন্য শত্রুদের সঙ্গে যুদ্ধ করছে। সর্বশক্তিমান আল্লাহর নামে আপনাদের কাছে আমার আবেদন ও আদেশ দেশকে স্বাধীন করার জন্য শেষ রক্তবিন্দু থাকা পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যান। আপনাদের পাশে এসে যুদ্ধ করার জন্য পুলিশ, ইপিআর, বেঙ্গল রেজিমেন্ট ও আনসারদের সাহায্য চান। কোন আপোষ নাই। জয় আমাদের হবেই। প্রিয় মাতৃভূমি থেকে শেষ শত্রুকে বিতারিত করুন। সকল আওয়ামীলীগ নেতা-কর্মি এবং অন্যান্য দেশপ্রেমিক প্রিয় লোকদের কাছে এ সংবাদ পৌছে দিন। আল্লাহ আপনাদের মঙ্গল করুন। জয় বাংলা।
স্বাধীনতার এই ঘোষনা বেতার যন্ত্রের মাধ্যমে তাৎক্ষনিক সারাদেশে পৌছে দেয়া হয়। স্বাধীনতার ঘোষনা দেয়ার অপরাধে ঐ রাতেই অর্থাৎ ২৫শে মার্চ রাত ১টা ১০ মিনিটে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সদস্যরা বঙ্গবন্ধুকে ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাসভবন থেকে গ্রেফতার করে ঢাকা সেনানিবাসে নিয়ে যায় এবং ২৬শে মার্চ তাকে বন্ধি অবস্থায় পাকিস্তানে নিয়ে যায়। ২৬ শে মার্চ জেনারেল ইয়াহিয়া খান এক ভাষনে আওয়ামীলীগকে নিষিদ্ধ ঘোষনা করে বঙ্গবন্ধুকে দেশদ্রোহী বলে আখ্যায়িত করেন।
পাকিস্তান সৃষ্টির পেছনে পাকিস্তানিদের কি অবদান ছিল জানিনা। তবে বাংলাদেশ সৃষ্টির পেছনে বাঙ্গালীদের ছিল অবর্ণনীয় অবদান, বাংলাদেশ আজ উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বিশ্বের দরবারে আত্মপ্রকাশ করেছে। দুর্ভাগ্য আমাদের ৭৫ এর ১৫ই আগষ্টের ঘটনা যদি না ঘটত তাহলে বহু আগেই বাংলাদেশ একটি উন্নত সম্মৃদ্ধ দেশে পরিণত হত।
এত কষ্ট করে যিনি স্বাধীনতা এনে দিলেন, সেই স্বাধীন দেশটা যখন তিনি গড়ে তুলছিলেন ঠিক তখনই ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগষ্ট ভোরে নিজ বাসভবনে বঙ্গবন্ধুকে নির্মমভাবে হত্যা করে এদেশের কিছু পৈছাশিক সেনাকর্মকর্তারা। সেদিন বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিনী মহিয়সী নারী বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব এবং ছোট শিশু শেখ রাসেলসহ পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনের ১৬ জন সদস্যকে ঘাতকেরা নির্মমভাবে হত্যা করে।
নিভে গেল এক আলোকিত প্রদীপ। ওরা শেষ করে দিলো বাংলা গড়ার কারিগর, ভোরের উদীয়মান সূর্যকে গ্রাস করলো অমাবর্ষার ঘোর-অন্ধকার, ফিদেল ক্যাস্ত্রোর মতো বিশ্ব নেতা বলেন ;“আমি হিমালয় দেখিনি কিন্ত শেখ মুজিবকে দেখেছি, ব্যক্তিত্ব এবং সাহসিকতায় তিনিই হিমালয়। শেখ মুজিবের মৃত্যুতে বিশ্বের শোষিত মানুষ হারালো তাদের একজন মহান নেতাকে, আমি হারালাম একজন অকৃত্রিম বিশাল হৃদয়ের বন্ধুকে।
পরিশেষে, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও ১৫ই আগষ্টে শাহাদৎ বরণকারী পরিবারের সকল শহিদদের এবং সকল ভাষা শহিদসহ স্বাধীনতাকামী শহিদ মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মার শান্তি ও মাগফেরাত কামনা করে আমার বক্তব্য এখানেই শেষ করছি আল্লাহ হাফেজ, বাংলাদেশ চিরজীবি হোক।

ইকলাছুর রহমান
ব্যাটালিয়ন আনসার
১ আনসার ব্যাটালিয়ন, ঠাকুরগঁাও।

২০১১-২০১৬ | কোনো সংবাদ বা ছবি অন্য কোথাও প্রকাশ করবেন না

Development: Zahidit.Com

ঘোষনাঃ
Translate »