Latest news

করোনাকালে শাবিতে ক্লাস-পরীক্ষা: ‘মানবিক নির্দেশনা মানছেন না শিক্ষকরা’

বৃহস্পতিবার, ১২ নভেম্বর ২০২০ | ৭:২৪ অপরাহ্ণ | 1 বার

করোনাকালে শাবিতে ক্লাস-পরীক্ষা: ‘মানবিক নির্দেশনা মানছেন না শিক্ষকরা’
করোনাকালে শাবিতে ক্লাস-পরীক্ষা: ‘মানবিক নির্দেশনা মানছেন না শিক্ষকরা’
করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে বাড়িতে অবস্থান করা শিক্ষার্থীদের ক্লাস-পরীক্ষা গ্রহণে শিক্ষকদের ‘মানবিক’ হওয়ার যে নিদের্শ দিয়েছিলেন উপচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, তা অনেকে মানছেন না বলে অভিযোগ তুলছেন শিক্ষার্থীরা।
অধিকাংশ শিক্ষার্থীরা গ্রামে অবস্থান করায় নেটওয়ার্ক সমস্যার কারণে অনলাইন ক্লাস-পরীক্ষায় অংশ নিতে তাদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। সে কারণে গতানুগতিক ধারায় ক্লাস-পরীক্ষার হিসেব না কষে ‘মানবিকভাবে বিবেচনা’ করার ঘোষণা দিয়ে শিক্ষার্থীদের আশ্বস্থ করেছিলেন উপাচার্য। করেনাাকালে কীভাবে পরীক্ষা নেওয়া যায়, তার একটা পদ্ধতিও তিনি বাতলে দিয়েছিলেন।
“অনলাইনে টার্ম টেস্ট, কুইজ, ভাইবা, অ্যাসাইনমেন্ট নিয়ে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করা যায়। শিক্ষার্থীদের সাথে আলোচনা করে যেভাবে সবার সুবিধা হয়, সেভাবেই পরীক্ষা নেওয়া হবে। কেউ এসবের কোন পদ্ধতিতে অংশ নিতে না পারলে কোর্স শিক্ষক তার সাথে ফোনে কথা বলে অন্তত তাকে মূল্যায়ন করবেন এবং তা মানবিকভাবে; কোন শিক্ষার্থী যাতে বঞ্চিত না হয়।”
উপস্থিতির বিষয়ে ছাড় দেওয়ার কথা বলেছিলেন উপাচার্য। বলেছিলেন, “উপস্থিতি কিংবা মার্কিং এর ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া বা সুযোগ দেওয়া দোষের কিছু না। কারণ এখন মহামারী চলছে। সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে আমাদের সবকিছু স্বাভাবিক রাখতে এসব পদক্ষেপ নিতে হচ্ছে। গত ১৮ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৬১তম একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় আগামী ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে অসমাপ্ত দুই সেমিস্টারের ফাইনাল পরীক্ষা ব্যতীত ক্লাস ও টার্মটেস্ট অনলাইন শেষ করার সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কর্তৃপক্ষের এ সিদ্ধান্তের পর বৈষম্যের আশংকায় শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ অনলাইনের পরীক্ষা বর্জন করে।
পরীক্ষায় অংশ নিতে উপাচার্য সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করে শিক্ষার্থীদের আশ্বস্থ করলেও তার নিদের্শনা আদতে অনেক বিভাগের শিক্ষকরা মানছেন না বলে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ।
নিজ বিভাগের শিক্ষকদের প্রতি সরাসরি অভিযোগ তুলতেও ভয় পাচ্ছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৬-১৭ সেশনের সমাজকর্ম বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে বেশিরভাগ শিক্ষার্থীই গ্রামে রয়েছেন যেখানে নেটওয়ার্ক পাওয়া যায় না। ফলে অনলাইন ক্লাসের শুরুর সময় থেকে ৩০-৩৫ জন শিক্ষার্থীর বেশি উপস্থিত থাকতে পারেননি। যদিও বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য গনমাধ্যমের বরাতে শিক্ষার্থীদের আশ্বস্থ করেছিলেন ক্লাসে উপস্তিতির মার্ক সম্পূর্ণ মানবিকভাবে দেখা হবে। তবে এ ক্ষেত্রে উপাচার্যের নির্দেশনা না মেনে যারা নিয়মিত ক্লাস করেছে তাদেরকে পূর্ণ মার্ক বাকি শিক্ষার্থীদের অর্ধেক মার্ক দেওয়া হবে বলে শিক্ষকরা বিভাগের শিক্ষার্থীদের বলেছেন বলে অভিযোগ করেন এ শিক্ষার্থী।
২০১৭-১৮ সেশনের অপর এক শিক্ষার্থী বলেন, গ্রামে থাকায় তার পক্ষে টার্ম টেস্টে অংশগ্রহণ করা সম্ভব নয়। তাই সে এসাইনমেন্ট দেওয়ার কথা বলেছিলো কোর্স শিক্ষককে। তবে বিভাগের শিক্ষক রাজি না হওয়ায় এ শিক্ষার্থী বিপাকে পড়েছেন বলে অভিযোগ করেন।
উপাচার্য মানবিক হওয়ার অর্থাৎ শিক্ষার্থীদের সমস্যা বিবেচনায় নেওয়ার নির্দেশ দিলেও শিক্ষকরা কেন তা মানছেন না জানতে চাইলে শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. রাশেদ তালুকদার বলেন, “যেসব শিক্ষক উপাচার্যের নির্দেশনা মানছেন না তাদের বিষয়ে উপাচার্যের কাছে তথ্য পৌঁছাতে হবে। এ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা বিভাগের ছাত্র উপদেষ্টা এবং বিভাগীয় প্রধানকে এসব বিষয় জানাতে পারে। তখন একটা সমাধান পাওয়া যাবে বলে আশা করা যায়।” অধ্যাপক ড. রাশেদ তালুকদার একাধারে ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালকও।
নিজ বিভাগের শিক্ষকদের প্রতি সামনে এসে অভিযোগ তুলতে সংকোচবোধ করা শিক্ষার্থীরা এক্ষেত্রে কী করবেন জানতে চাইলে শিক্ষক-শিক্ষার্থী উভয়েরই প্রতিনিধি এ অধ্যাপক বলেন, “যেসব শিক্ষার্থী সরাসরি বিভাগীয় প্রধান বা ছাত্র উপদেষ্টাকে এসব বিষয় বলতে সংকোচ বোধ করবে তারা প্রয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিকদের এসব বিষয় সম্পর্কে জানাতে পারে। তখন সাংবাদিকরা উপাচার্যকে বিষয়গুলো জানালে তিনি ঐসব বিভাগের শিক্ষকদের সাথে যোগাযোগ করবেন। যেসব ডিপার্টমেন্ট নির্দেশনা মানছেনা তাদের তথ্য ভিসি স্যার পর্যন্ত পৌঁছাতে হবে, সেটা যে মাধ্যমেই হোক।

২০১১-২০১৬ | কোনো সংবাদ বা ছবি অন্য কোথাও প্রকাশ করবেন না

Development: Zahidit.Com

ঘোষনাঃ
Translate »